গাজীপুরের সেরা ১0 রিসোর্ট
গাজীপুরের সেরা ১0 রিসোর্ট
কর্মব্যস্ত নাগরিক জীবনে হাঁপিয়ে ওঠে অনেকেই খোঁজেন প্রশান্তির ছোঁয়া। অল্প সময়ের ছুটিতেও দু-দণ্ড প্রকৃতির সান্নিধ্য পেলে মন্দ হয় না। রাজধানী ঢাকার অদূরে গাজীপুরের প্রত্যন্ত এলাকায় মনোরম দৃশ্যমাখা গ্রামীণ পরিবেশে গড়ে উঠেছে
অর্ধ-শতাধিক বেসরকারি রিসোর্ট। এখানে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের আনাগোনা থাকে সবসময়। আর হাতের কাছে এমন সুন্দর, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে রাজধানীসহ দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গাজীপুরের রিসোর্টগুলো।
10 আনন্দ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পরিচিত রিসোর্ট হলো ‘আনন্দ’। আনন্দ রিসোর্টটি নামের সঙ্গে বেশ আবেগের মিল রেখেছে।
আনন্দদানের সব উপকরণই এখানে জোগাড় করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু চোখে দেখে নয়, বরং বিভিন্ন খেলার রাইডে চড়ে আনন্দের দেখা মিলবে এখানে।
বিলঘেঁষা এই আনন্দ রিসোর্টের বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে সরাসরি বিল থেকে মাছ শিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। মাছ শিকারিদের জন্য এই সুযোগ অবশ্যই বাড়তি পাওনা। ছিপ ফেলে মাছের জন্য অপেক্ষায় কাটবে সময়।
এ ছাড়া রয়েছে ছোটদের খেলার নানা উপকরণ। একটি সুইমিং রয়েছে। ৪২ বিঘা উঁচু-নিচু টিলা ভূমিতে গড়ে তোলা হয় আনন্দ রিসোর্ট।
কালিয়াকৈরের সিনাবহের তালতলি এলাকায় এর অবস্থান। বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ ও ৬টি কটেজ রয়েছে এখানে।
ভাড়া : কটেজগুলোর প্রতিকক্ষ ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া পড়বে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা।
9 ছুটি
ছুটি রিসোর্টে রয়েছে নৌভ্রমণের ব্যবস্থা, বিরল প্রজাতির সংরক্ষিত বৃক্ষের বনে রয়েছে টানানো তাঁবু। ছনের ঘর, বার্ড হাউস, মাছ ধরার ব্যবস্থা, হার্বাল গার্ডেন, বিশাল দুটি খেলার মাঠ, আধুনিক রেস্টুরেন্ট, দুটি পিকনিক স্পট, বাচ্চাদের জন্য কিডস জোনসহ সারা দিন পাখির কলরব, জোনাকি পোকার মিছিল ও ঝিঁঝিঁ পোকার হৈচৈ।
রিসোর্টের নিয়ম অনুসারে চাঁদনী রাতে বিদ্যুতের আলো জ্বালানো হয় না। ভরা পূর্ণিমা এবং রিমঝিম বর্ষা উপভোগ করার জন্য এই ছুটিই হচ্ছে অন্যতম রিসোর্ট।
৫৪ বিঘা জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে এই রিসোর্টস। ছুটি রিসোর্টসে বড় আকর্ষণ ফিশিংয়ের ব্যবস্থা। আগত দর্শনার্থীরা ভিতরের লেকে ইচ্ছামতো মাছ শিকার করতে পারবেন। অবশ্য এ জন্য একটু আলাদা ফি লাগে।
আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডিমিন্টন খেলার মাঠ রয়েছে।
এসি, নন-এসি ২১টি কটেজ রয়েছে। এখানে দুই ধরনের থাকার ব্যবস্থা আছে। পরিপূর্ণ গ্রামীণ আমেজের প্রাণময় লোকজ বসবাস অথবা ইট কাঠ বালুর কটেজ। রয়েছে সুইমিং পুল। রয়েছে দুটি কনফারেন্স রুম। খাবার হোটেলে বাংলা, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, থাই, কন্টিনেন্টাল খাবার পাওয়া যায়।
ভাড়া : কটেজগুলো ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। কনফারেন্স রুম ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং পিকনিকের জন্য ১০০ থেকে ২০০ জনের ভাড়া ৯০ হাজার টাকা।
যেভাবে যাবেন :
নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসযোগে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-কাপাসিয়া মহাসড়কের পাবুররাস্তা নামক স্থানে নামতে হবে। পরে পাবুররাস্তার মোড় থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে অঙ্গনার অবস্থান।
8 অঙ্গনা
অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হওয়ায় এই রিসোর্টের নামকরণ করা হয়েছে ‘অঙ্গনা’। গ্রামীণ সৌন্দর্যের বেসরকারি রিসোর্টস অঙ্গনার মালিক উপমহাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লার ভাই সৈয়দ আলী মুরাদ ২০০৪ সালে ১৮ বিঘা জমির ওপর এটি নির্মাণ করেন। যার অবস্থান গাজীপুরের কাপাসিয়ার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে।
নগর জীবনে একাধারে চলতে চলতে ক্লান্তি এসে যায় মনে। আর এই ক্লান্তি দূর করতে রাজধানীর অদূরে কাপাসিয়ার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে বেসরকারি এই রিসোর্ট ‘অঙ্গনা’।
পুরো রিসোর্ট এলাকা একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘেরা। এই নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে পুরো রিসোর্ট এলাকায়। প্রাকৃতিকভাবে সাজানো বাগান।
এখানে রয়েছে দুটি খেলার মাঠ, রয়েছে দুটি বিশালাকার বিশাল জলাশয় রয়েছে। একটি সুইমিং পুল, একটি ব্যাডমিন্টন কোট ও একটি ডির পার্কও রয়েছে এখানে।
অঙ্গনার সবচেয়ে আকর্ষণ হচ্ছে সুন্দরবনের অপরূপ হরিণ। বিশালাকৃতির দুটি খাঁচায় রয়েছে অন্তত ১৬টি হরিণ। সঙ্গে হরিণের বাচ্চাও রয়েছে কয়েকটি। কয়েকটি বাঁশ বাগান পুকুরপাড়ের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। রয়েছে মাটির ঘর ও সুইমিং পুল।
আগত দর্শনার্থীদের সার্বক্ষণিক সেবা দিতে ১৮ জন কর্মচারী রয়েছে। এখানে শ্রীলঙ্কানরা বেশি আসেন। সময় পেলে ঘুরে আসতে পারেন।
ভাড়া : কটেজগুলোর প্রতি কক্ষ ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৫ হাজার টাকা। পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য পুরো অঙ্গনার ভাড়া ৭০-৮৫ হাজার টাকা।
যেভাবে যাবেন :
নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা মোড়ে নামতে হবে। পরে চন্দ্রা মোড় থেকে ৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে কালামপুর গ্রামে সোহাগপল্লীর অবস্থান।
7 সোহাগপল্লী
১১ একর উঁচু-নিচু জমিতে সবুজে ঘেরা এই রিসোর্টের অন্যতম আকর্ষণ হলো জলাশয়ের ওপর নির্মিত অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত ঝুলন্ত সাঁকো আর বিভিন্ন কারুকাজ- যা আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।
বিশাল এক জলাশয়ের মাঝখানে ঝুলন্ত সাঁকো থাকায় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে বেশি। জলাশয়ের পূর্ব পাশে রয়েছে একটি দ্বিতল রেস্টুরেন্ট। রেস্টুরেন্টটির নাম রাখা হয়েছে মেজবান। শুধু তাই নয়, কৃত্রিমভাবে একটি লেক নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে বর্ষা বা শুষ্ক সবসময়ই পানি থাকে। আর এই লেকের পানিতে বিভিন্ন জাতের মাছের বিচরণ দেখা যায়। রয়েছে উন্নতমানের কয়েকটি কটেজ।
কটেজগুলোর আকর্ষণও কম নয়। কটেজগুলো এমনভাবে নির্মিত, দেখতে মনে হয় যেন ইতালির রোম শহরের একটি সাজানো রয়েছে একটি সুইমিং পুল আর কনফারেন্সের জন্য একটি হলরুম।
৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য। দর্শনার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী ভাড়ার তারতম্য রয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্যও ভাড়া দেওয়া হয়। এখানে রয়েছে উঁচু পাহাড়।
ভাড়া : দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা।
যেভাবে যাবেন :
নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহি বাসে ঢাকা থেকে গাজীপুর হয়ে মাওনা যেতে হবে। মাওনা থেকে পশ্চিমের রাস্তা দিয়ে একটু সামনে গিয়ে উত্তরে সাড়ে ৫ কিলোমিটার যেতে হবে। সেখানে গেলেই চোখে পড়বে ড্রীম স্কয়ার। যা গাজীপুর জেলার সর্ব উত্তরে অবস্থিত।
6 রাঙামাটি
গাজীপুরে দিন দিন রিসোর্টের সংখ্যা বাড়ছে। পর্যটকদের ভিড় বাড়ার কারণেই গাজীপুরের রিসোর্টগুলোর দিকে মানুষ বেশি ঝুঁকছে। তেমনই একটি রিসোর্টের নাম রাঙামাটি।
রাঙামাটি নাম শুনে হয়তো অনেকের মনে হবে এটি পার্বত্য এলাকার রাঙামাটি জেলা। আসলে এই রাঙামাটি সেই রাঙামাটি নয়, এটি ঢাকার পাশে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেসরকারি একটি রিসোর্টের নাম।
রাঙামাটি নাম রাখা হলেও এখানে রাঙামাটির মতো পাহাড়-পর্বত নেই। এখান প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকের চোখ ভরিয়ে দেবে মুগ্ধতায়। এখানে প্রকৃতি-বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে।
কালিয়াকৈরের সিনাবহ এলাকার ভাওয়াল শালবনের ভিতর বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে রাঙামাটি রিসোর্ট।
৬০ বিঘা জমির ওপর রয়েছে বড় বড় ফুলের বাগান। ৭টি কটেজ, একটি সুইমিং ও লেক রয়েছে। রয়েছে শিশুদের থ্রি-ডি বিনোদনের ব্যবস্থা। একটি কনফারেন্স রুম ও খাবার হোটেল রয়েছে।
বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, ঔষধি, বনজ গাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে রাঙামাটি রিসোর্ট। ভিতরে একটি লেক রয়েছে। এই লেকের মাঝে একটি কাঠ-বাঁশের ঝুলন্ত সাঁকো রয়েছে, যা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে বেশি। একটি সুইমিং পুলও রয়েছে এখানে। এই আয়োজনগুলো দর্শনার্থীর মন ভরিয়ে দেবে।
ভাড়া : কটেজের প্রতি কক্ষ ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ৭ থেকে ১২ হাজার টাকা। পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভাড়া ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা।
যেভাবে যাবেন :
রিসোর্টটি বেশ পরিচিত। গাজীপুরের বাঘেরবাজার এলাকায় পৌঁছলে সহজেই এখানে আসতে পারবেন। নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাঘেরবাজার আসতে হবে। এখানেই রিসোর্টটি অবস্থিত।
5 ড্রিম স্কয়ার
গাজীপুরের মাওনার অজহিরচালা গ্রামে ‘ড্রিম স্কয়ার’ নামে বিশালাকৃতির বেসরকারি রিসোর্ট রয়েছে। ১২০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট।
এর প্রধান আকর্ষণ বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সবুজের সমারোহ। ড্রিম স্কয়ারের আকর্ষণীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে তেলের ঘানি, ডেইরি ফার্ম, মৎস্য হ্যাচারি, কম্পোস্ট সার প্লান্ট, বায়োগ্যাস প্লান্ট।
ড্রিম স্কয়ারের আলাদা বৈশিষ্ট্য হলো রেস্টুরেন্টের খাবারের সবজি এর ভেতরেই চাষাবাদকৃত, যা সম্পূর্ণ সার ও কীটনাশকমুক্ত। রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা বিশালাকৃতির কয়েকটি লেক।
রয়েছে ১৬টি ছোট-বড় পুকুর। আর বিভিন্ন গাছে রয়েছে বানরের প্রতিকৃতি। এখানে নানান প্রজাতির পাখির অভয়াশ্রম রয়েছে। ড্রিম স্কয়ারে প্রতি বছর শীতের সময় অতিথি পাখির মেলা বসে।
আছে একটি রেস্টুরেন্ট, রয়েছে ওয়াই-ফাই সুবিধা। এখানে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা। এখানে ২০টি উন্নতমানের কটেজ রয়েছে।
ভাড়া : পিকনিক বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য ৫০ জনের মধ্যে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা। ৫০ জনের অধিক হলে তুলনামূলক জনপ্রতি কম হয়। ডিলাক্স কটেজ ভাড়া ৪০ হাজার আর রেগুলার কটেজ ভাড়া ৬ হাজার ৩২৫ টাকা।
যেভাবে যাবেন :
নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে গাজীপুর চৌরাস্তা হয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা মোড়ে নামতে হবে। পরে চন্দ্রা মোড় থেকে সাড়ে ৪ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে সিনাবহ গ্রামে রাঙামাটির অবস্থান।
4 নক্ষত্রবাড়ী
গাজীপুরে অবস্থিত বেসরকারি রিসোর্টগুলোর মধ্যে সৌন্দর্যমণ্ডিত নক্ষত্রবাড়ী’। নক্ষত্রবাড়ী প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও অতি জনপ্রিয় নাম।
প্রকৃতিপ্রেমীদের সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত ঢাকার খুব কাছে একটি রিসোর্ট বানানোর কথা চিন্তা করে ১৪ বিঘা জমির ওপর ‘নক্ষত্রবাড়ী’ নির্মাণ করেন। ২০১১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় নক্ষত্রবাড়ীর।
এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, পুকুরের পানির ওপর কাঠ-বাঁশের সমন্বয়ে নির্মিত ১১টি কটেজ। যার বারান্দায় বসে রাতের জোছনা বা পূর্ণিমা দেখা যায়। শুধু তাই নয়, প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে, অতি সৌন্দর্যের কটেজ এগুলো।
এখানে বসে শোনা যায় ব্যাঙের ডাক, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, জোনাকির আলো ছড়ানো টিপ টিপ বাতি জ্বলা-নিভা। রয়েছে একটি কনফারেন্স রুম ও খাবার হোটেল। আর এই হোটেলে রয়েছে বাংলা, চাইনিজ, ইন্ডিয়ান, থাই, কন্টিনেন্টাল খাবার।
এখানে আগতদের বেশির ভাগই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে চাইলে নক্ষত্রবাড়ী চলে আসতে পারেন।
ভাড়া : পানির ওপর কটেজগুলো ২৪ ঘণ্টার ভাড়া ১০ হাজার ৭৫২ টাকা। বিল্ডিং কটেজের ভাড়া কাপড়বেড ৮ হাজার ২২২ টাকা এবং টু-ইন বেড ৬ হাজার ৯৫৮ টাকা। দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫০০ টাকা।
যেভাবে যাবেন :
প্রথমে গাজীপুরের চৌরাস্তায় আসতে হবে। সেখান থেকে নিজস্ব পরিবহন বা যাত্রীবাহী বাসে করে গাজীপুর ডিসি অফিসের সামনে (রাজবাড়ী)। সেখান থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার পূর্বে আমতলী বাজার থেকে একটু উত্তরে সুকুন্দী ছুটি রিসোর্টের অবস্থান।
3 সারাহ রিসোর্ট
রাজধানী ঢাকার কাছে পরিবার-পরিজন কিংবা প্রিয় মানুষের সাথে আনন্দময় সময় কাটাতে সারাহ রিসোর্ট (Sarah Resort) একটি আদর্শ ভ্রমণ স্থান। গাজীপুরের রাজাবাড়িতে অবস্থিত চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শিশুদের প্রতি যত্নবান দৃষ্টিভঙ্গির জন্য খুব অল্প সময়ে সারাহ রিসোর্ট দর্শনার্থীদের মন জয় করে নিয়েছে।
২০০ বিঘা জুড়ে নির্মিত সারাহ রিসোর্টে আছে ৬ টি বাংলো, ওয়াটার লজ, সুইমিং পুল, ৯ডি মুভি থিয়েটার, ভিআর গেইমস, কিডস জোন, ইনডোর ও আউটডোর গেইম, কায়াকিং, বোট রাইডিং, সাইকেল রাইডিং, মিনি চিড়িয়াখানা ইত্যাদি।
চাইলে ফানুস কিংবা ঘুড়িও উড়াতে পারবেন সারাহ রিসোর্টে। এছাড়াও জন্মদিন, এনিভার্সারি, পিকনিক এবং যেকোন ধরনের সভা-সেমিনার আয়োজনের সুব্যবস্থা রয়েছে।
খরচ এবং প্যাকেজের তথ্য
আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত সারাহ রিসোর্টে ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরি ও
সুযোগ সুবিধা সম্পন্ন কক্ষ রয়েছে। ক্যাটাগরি অনুযায়ী থাকার জন্যে খরচ করতে হবে ৮,৫০০ থেকে ৬৬,০০০ টাকা।
ভিলা ও
রুমের সাথে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রয়েছে কমপ্লিমেন্টারি নাস্তা, এসি রুম, ফ্রি ওয়াইফাই, ২৪ ঘন্টা চা/কফি, টেলিফোন, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা, স্যাটেলাইট কেবল কানেক্টেড টিভি এবং কার পার্কিং।
2 নুহাশ পল্লী
নুহাশ পল্লী (Nuhash Polli) গাজীপুর জেলার পিরুজ আলী গ্রামে অবস্থিত যা কিনা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্রাম। প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ (Humayun Ahmed) ঢাকার অদূরে গাজীপুরে প্রতিষ্ঠা করেছেন এই প্রাকৃতিক নৈসর্গ নুহাশ পল্লী।
গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ২0 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নুহাশ পল্লী যা ৪০ বিঘা জায়গা নিয়ে তৈরি। শান্ত সৌম্য পরিবেশ। এইখানে চির নিদ্রায় হুমায়ূন আহমেদ, উত্তরাধুনিক বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তী লেখক।
এখানে ২৫০ প্রজাতির দূর্লভ ঔষধি, ফলজ ও বনজ গাছ রয়েছে। বাগনের এক পাশে “বৃষ্টি বিলাস” নমে অত্যাধুনিক একটি বাড়ি রয়েছে। এছাড়া এখানে দেখা মিলবে হুমায়ূন আহমেদের আবক্ষ মূর্তি ও সমাধিস্থল
টিকেট মূল্য এবং সময়সূচী
নুহাশ পল্লী সারা বছর দর্শনার্থীদের জন্যে খোলা থাকে। কোন সাপ্তাহিক বন্ধ নেই। প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। নুহাশ পল্লীতে ১২ বছরের উপরে জনপ্রতি প্রবেশ মূল্য ২০০ টাকা ধরা হয়েছে।
তবে বছরের ২ দিন অর্থাৎ ১৩ নভেম্বর ( হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন) এবং ১৯ জুলাই মৃত্যু দিন নুহাশ পল্লী সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে। এই দুই দিন ঢুকতে কোন টিকেট লাগে না।
যোগাযোগের
ঠিকানা
নুহাশ পল্লী ফোন নম্বর: ০১৯১১৯২০৬৬৬
1 ভাওয়াল রিসোর্ট
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গাজীপুরের বরৈপাড়ার মির্জাপুর ইউনিয়নের নলজানী গ্রামে সুবিশাল 65 একর জমির উপর নান্দনিক এই রিসোর্টটি অবস্থিত।
সবুজে পরিবেষ্টিত ভাওয়াল রিসোর্টে যেমন খুঁজে পাওয়া যাবে মনের প্রশান্তি, তেমনই পাওয়া যাবে জীবনকে একটু উপভোগ করার সুযোগ।
ভাওয়াল রিসোর্ট এর প্রধান আকর্ষণ বললে প্রথমেই যার কথা আসবে সেটি এর সুবিশাল সুইমিং পুল! পুরো রিসোর্টটির মাঝ দিয়ে এত সুন্দর ভাবে তৈরী করা হয়েছে এই সুইমিং পুল যেখানে সারাদিন কাটিয়ে দেয়া যাবে।
বাচ্চাদের জন্য রয়েছে কম উচ্চতার পুল। এমনকি পুল সাইডে বসেও কাছের মানুষটির সাথে গল্প করতেও ভালো লাগবে এখানে। সুইমিং পুল ছাড়া অন্য আকর্ষণ বলতে রয়েছে সাইক্লিং, লন টেনিস, ব্যাডমিন্টন, বিলিয়ার্ড, জিমনেশিয়াম, স্পা এবং বারবিকিউ জোন।
ছবি তোলার জন্য এই রিসোর্ট এক কথায় অসাধারণ! সাথে ফ্রি ওয়াইফাই তো আছেই!
Comments
Post a Comment